মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৩

২০৩২ সালে পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনা কতটুকু?

earth
২০৩২ সালনাগাদ বিশালাকৃতির একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা এখনই এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সম্প্রতি ইউক্রেনের গবেষকেরা  ‘২০১৩টিভি ১৩৫’ নামের এই গ্রহাণুটির সন্ধান পেয়েছেন। আগামী ১৯ বছরের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। গবেষকেরা বলছেন, এ বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক গ্রহাণুটি কক্ষপথ অতিক্রম করেছে। তবে এটি আবার ২০৩২ সালের ২৬ আগস্ট পৃথিবীর কক্ষপথের কাছে চলে আসবে। ক্রিমিন অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্যাল অবজারভেটরির খোঁজ পাওয়া এ গ্রহাণুটিকে পৃথিবীর জন্য দ্বিতীয় বিপজ্জনক বস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। খ্রিষ্টান সায়েন্স মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নাসার গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, বিশালাকার এ গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে যে ধ্বংসযজ্ঞ তৈরি হবে, তা দুই হাজার ৫০০ পারমাণবিক বোমার সমান। এক হাজার ৪৪০ ফুট প্রশস্ত গ্রহাণুটি আঘাত হানলে পৃথিবীর ১০ লাখ বর্গমাইল এলাকা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কি এই গ্রহাণু আমাদের আতঙ্কিত করার জন্য যথেষ্ট? গবেষকেরা এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ‘২০১৩টিভি ১৩৫’ নামের গ্রহাণুটির পৃথিবীতে আঘাত হানার আশঙ্কা খুবই কম। ৪৯ হাজার বারের মধ্যে মাত্র একবার এটি পৃথিবীতে আঘাত করতে পারে। সম্ভাব্যতার বিবেচনায় পৃথিবীতে গ্রহাণুটির আঘাত হানার আশঙ্কা ০.০০২ শতাংশ।
নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট প্রোগ্রাম বা এনইওপি বিভাগের পরিচালক ডন ইয়োম্যানস জানিয়েছেন, বিশালাকার এ গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। অন্ধকার আকাশে আলোহীন কোনো বস্তু নির্ণয় করা কঠিন হলেও এনইওপি ধারণা করছে, গ্রহাণুটি ২০০ থেকে ৮০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। নাসার এনইওপি বিভাগ ১৯৯৫ সাল থেকে পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে থাকা গ্রহাণু নিয়ে গবেষণা করছে।
নাসার গবেষকেরা এর মধ্যে ‘টোরিনো স্কেল’ নামে পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে থাকা গ্রহাণুর ভয়াবহতা পরিমাপের একটি মাপকাঠি তৈরি করেছেন। এই স্কেলে ভয়াবহতার মাত্রা অনুযায়ী শূন্য থেকে ১০ পর্যন্ত রেটিং দেওয়া হয়। শূন্য স্তরে কোনো আশঙ্কা বা ঝুঁকি থাকে না আর টোরিনো স্কেলে ঝুঁকির মাত্রা ১০ হলে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
গবেষকেরা এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৩৪টি গ্রহাণু শনাক্ত ও পরীক্ষা করে দেখেছেন। এসব গ্রহাণুর পর্যবেক্ষণ শেষে গবেষকেরা টোরিনো স্কেলে শূন্য মাত্রায় দেখিয়েছেন। এখন পর্যন্ত টোরিনো স্কেলে মাত্র দুটি গ্রহাণুকে ১ স্কেলে রেটিং দিয়েছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে একটি ছিল ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর আবিষ্কৃত ‘২০০৭ ভিকে১৮৪’। দীর্ঘদিন এ গ্রহাণুটি পর্যবেক্ষণ শেষে তাঁরা জানিয়েছেন, ২০৪৮ সালের ৩ জুন এটি পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা হচ্ছে ০.০৫৫ শতাংশ মাত্র। সম্প্রতি আবিষ্কৃত ‘২০১৩টিভি ১৩৫’ গ্রহাণুটিকেও নাসার গবেষকেরা টোরিনো স্কেলে ১ রেটিং দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলছেন, টোরিনো স্কেলে বিপদের মাত্রা ১ হলেও এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। টেলিস্কোপের সাহায্যে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হলে টোরিনো স্কেলে ঝুঁকির মাত্রা শূন্যতে নেমে আসবে।

Unknown

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation.

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

Copyright @ 2013 Daily News Update.